আপনারা মমতার পা ভেঙেছেন,জনগন আপনাদের মাথা ভাঙবে, অভিষেক বন্দোপাধ্যায়
দি নিউজ লায়নঃ শুক্রবার ঝাড়গ্রাম জেলার বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত জামবনি ব্লক এর পড়িহাটি এলাকায় বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেবনাথ হাঁসদা ও ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বিরবাহা হাঁসদার সমর্থনে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করা হয় । ওই জনসভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়গ্রাম জেলা কমিটির চেয়ারম্যান বীর বাহা সরেন টুডু,তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়গ্রাম জেলার কো অডিনেটর অজিত মাহাতো ,তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেবনাথ হাঁসদা ও বিরবাহা হাঁসদা,তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সত্যরঞ্জন বারিক সহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ।
প্রকাশ্য সমাবেশে তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তার ভাষণে বলেন ঝাড়গ্রামের মানুষ দিল্লির কাছে মাথা করবে না। ঝাড়গ্রামের মানুষ জেপি নাড্ডা, অমিত শাহ দের সভায় না গিয়ে যোগ্য জবাব দিয়েছে। জঙ্গলমহলে তাদের যে জনসমর্থন নেই তাদের সভায় মানুষ না যাওয়ায় তা প্রমাণিত হয়েছে।তিনি তার ভাষণে বলেন দোসরা মার্চ ইভিএম খোলার সঙ্গে সঙ্গে পদ্মফুল চোখে সর্ষেফুল দেখবে। তিনি বিজেপির নাম না করে বলেন আপনারা মমতার পা ভেঙেছেন জনগণ আপনাদের মাথা ভাঙবে। জনগণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে আছে তা আগামী দোসরা মার্চ প্রমাণিত হবে ।
তাই সাতাশে মার্চ থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার কর্মযজ্ঞ বাংলায় শুরু হবে। তিনি সকল কে বলেন আপনারা সকাল-সকাল ভোট কেন্দ্রে গিয়ে নিজের ভোট নিজে দিবেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন নারী শক্তি,ললনা শক্তি না জাগিলে এ বিশ্ব জাগে না ।তাই পড়িহাটির সমাবেশে হাজার হাজার মহিলার সমাগম দেখে তিনি বলেন প্রচন্ড রোদ উপেক্ষা করে যে ভাবে হাজার হাজার মা-বোনেরা সমাবেশ এসেছেন তাদের ধন্যবাদ না জানিয়ে থাকতে পারছি না। তাদের আমি কুর্নিশ জানাই। তিনি বলেন এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই হাজার হাজার মা-বোন রয়েছেন।
সেই সঙ্গে তিনি বলেন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তৃণমূল কে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই ।কোন ভয়ের কাছে তৃণমূল কংগ্রেস মাথা নত করে না । তৃণমূল কংগ্রেস মাথা উঁচু করে সব সময় চলে আগামী দিনেও চলবে। তিনি আরো বলেন যে আপনারা দেবনাথ হাঁসদা ও বিরবাহা হাঁসদা কে ভোট দেবেন না আপনারা ভোট দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনোনীত এই দুইজন কে যদি আপনার নির্বাচিত করেন তাহলে বাংলায় সরকার গড়তে পারবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই অশুভ শক্তি বিজেপিকে পরাস্ত করতে আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদ ধন্য দেবনাথ হাঁসদা ও বিরবাহা হাঁসদাকে জোড়া ফুলে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন।
তিনি তার ভাষণে আরো বলেন যে বারবার বাংলাকে অপদস্থ করার জন্য চক্রান্ত করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। কিন্তু বাংলার মানুষ বিজেপির চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়েছে। মাঝে আর কয়েকটা দিন তাই দলীয় কর্মীদের তিনি উজ্জীবিত করে বলেন দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে হবে। খাওয়া-দাওয়া বন্ধ রেখে দলীয় প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন জঙ্গলমহলে শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জঙ্গলমহলে উন্নয়ন এর কাজ হয়েছে। যখন জঙ্গলমহল অশান্ত হয়েছিল তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তখন কোথায় ছিলেন বিজেপি। আজকে বিজেপি বড় বড় কথা বলছে।
বিজেপির কথা বলার নৈতিক অধিকার নেই।বিজেপি বলছে সোনার বাংলা গড়বো। কেন গুজরাট সোনার গুজরাট হয়নি ,কেন উত্তর প্রদেশ সোনার উত্তরপ্রদেশ হয়নি, ঝাড়খন্ড কেন সোনার ঝাড়খন্ড হয়নি, কেন রাজস্থান সোনার রাজস্থান হয়নি। যারা দেশটাকে বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত করছে তারা বলছে সোনার বাংলা গড়বে। দিলীপ ঘোষ গরুর দুধ থেকে সোনা তৈরি করবে আর সেই সোনা দিয়ে অমিত শাহ জেপিনাড্ডারা সোনার বাংলা গড়বে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীকে বলেন যিনি বাংলার সম্পর্কে কিছুই জানেন না, বাংলার কৃষ্টি-সংস্কৃতি জানেন না, শুধু বাংলায় এসে বড় বড় কথা বলছেন ।তিনি বলেন শুধু নরেন্দ্র মোদী নয় জেপি নাড্ডা অমিত শাহর মতো বহিরাগতরা যারা বাংলায় এসেছেন তারা একসঙ্গে দু মিনিট যদি বাংলা বলতে পারে তাহলে ভাববো যে তারা বাংলা জানেন। ওরা বাংলা বলতে পারবে নি ওদের কাগজে লিখে দিতে হয় সেই লেখা পড়ে ওদের বক্তব্য রাখতে হয় ।তিনি বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন বাংলার শান্তি ও সম্প্রীতি অটুট থাকবে,কেউ নষ্ট করতে পারবে না।
আগামী দিনে সেই শান্তিকে যদি বিঘ্নিত করার কেউ চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে বাংলা ।তাই তিনি বলেন আপনারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আপনাদের পাশে রয়েছে। বিজেপি হাজার চক্রান্ত করলেও বাংলার মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিল পাশে রয়েছে আগামী দিনেও থাকবে। জামবনি ব্লক এর পড়িহাটির পাশাপাশি শুক্রবার উড়িষ্যার সীমান্তবর্তী ঝাড়গ্রাম জেলার নয়াগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দুলাল মর্মর সমর্থনে নয়াগ্রামের খড়িকামাথানি এলাকায় এক জনসভায় আয়োজন করে তৃণমূল কংগ্রেস ।
নয়াগ্রামের ওই জনসভায় বক্তব্য রাখেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল কংগ্রেসের ঝাড়গ্রাম জেলার কো-অর্ডিনেটর উজ্জ্বল দত্ত ,তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন সাহু ,লোকেশ কর, নয়াগ্রাম কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা ঝাড়গ্রাম জেলা তৃনমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু ,গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ডাক্তার খগেন্দ্র নাথ মাহাতো সহ আরো অনেকেই। এই সভা থেকে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার আহ্বান জানান ।
সেই সঙ্গে গত দশ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বাংলার উন্নয়নে কি কি কাজ করেছে তা তিনি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দশ বছরে কি কি কাজ করেছে তার রিপোর্ট কার্ড তৈরি করে বঙ্গধ্বনি কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে দিয়েছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার সাত বছর ক্ষমতায় রয়েছে।
তারাএখনও রিপোর্ট কার্ড তৈরি করতে পারেনি ।তিনি তাঁর ভাষণে আরো বলেন শুধু মুখে বড় বড় ভাষণ দেন কিন্তু রেশন দেয়নি ।তাই আপনারা কাকে ভোট দেবেন যিনি ভাষণ দেন তাকে,না যিনি রেশন দেন তাকে। সেই সঙ্গে তিনি আরো বলেন 2019 সালের লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি এলাকার কি কি উন্নয়ন করেছেন তা তিনিবলতে পারবেন না ।যেমন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সাত বছর ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও বিজেপি তাদের রিপোর্ট কার্ড মানুষের কাছে পেশ করতে পারেনি ।তেমনি বিজেপি সাংসদ উন্নয়ন করেছে বলে দেখাতে পারবে নি ।
তাই মিথ্যাবাদী সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপিকে বাংলার বুক থেকে উৎখাত করার জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে শপথ গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন আগামী 27 শে মার্চ থেকে বিজেপিকে উৎখাত করার কর্মসূচি শুরু হবে। ২ রা মে বাংলা থেকে বিজেপি উৎখাত হবে ।বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Post a Comment